মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ফৈলজানা ইউনিয়নের ইতিহাস

পাবনা জেলাধীন চাটমোহর উপজেলার এক প্রত্যন্ত জনপদ ‘ফৈলজানা ইউনিয়ন’। ফৈলজানা ইউনিয়নটি ঠিক কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার সঠিক সন তারিখ সংরক্ষিত নেই। ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ফৈলজানা বাজার হতে অনেক দূরে কুয়াবাশী গ্রামে পরিচালিত হলেও এই ইউনিয়নের নাম ফৈলজানা। মূলতঃ ইউনিয়ন পরিষদের অবস্থানস্থলের নামানুসারে এই ইউনিয়নের নামকরণ হয়নি। ফৈলজানা ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও ঐতিহাসিক গ্রাম ফৈলজানা। পূর্ব যুগে এখানে প্রভাবশালী হিন্দু বসতী ছিল। সমসাময়িক কালের খ্যাতিমান, প্রোথিতযশা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবস্থান এই ফৈলজানা গ্রামেই ছিল। ফৈলজানা গ্রামের নামানুসারেই এই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ফৈলজানা। ‘ফৈলজানা ইউনিয়ন’ পাবনা জেলার প্রসিদ্ধ নদী চিকনাই নদীর তীরে অবস্থিত। এখানকার মাটি খুব উর্বর। ধান, পাট, অাঁখ, সরিষা, তিল, গম, খেঁসারী ইত্যাদি সকল ফসলই এই ইউনিয়নে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন হয়। ইউনিয়নের ৮০% মানুষ কৃষিজীবি। ক্ষুদ্র কুটির শিল্প তথা তাঁত শিল্প এই ইউনিয়নবাসীর অন্যতম একটি পেশা। তবে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখানকার তাঁতশিল্পগুলো টিকে থাকতে পারছে না। সরকারী সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ইউনিয়নের তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ হয়ে ইউনিয়নবাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফৈলজানা ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু ও খ্রীষ্টান পরিবারের বসবাস আছে। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার সহাবস্থান বিদ্যমান। ফৈলজানা ইউনিয়নে সকল রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কার্যক্রম রয়েছে। তবে এই ইউনিয়নবাসী পরমতসহিষ্ণু মনোভাব সম্পন্ন হওয়ায় কোন প্রকার রাজনৈতিক সহিংসতা নেই। সকল দলের নেতা-কর্মীরা একই মঞ্চে সমবেত হতে কখনো কার্পন্য করেন না। এলাকার উন্নয়নে এবং জাতীয় প্রয়োজনে নেতা-কর্মীরা সকলে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করেন।

 

এই ইউনিয়নে চরমপন্থী দলের আনাগোনা ও তৎপরতা রয়েছে। মূলতঃ এরা জনবিচ্ছিন্ন হলেও সাধারণ জনগণ সর্বদা এদের ভয়ে আতংকিত থাকে। পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার হাদল ইউনিয়ন থেকে চরমপন্থীরা এই ইউনিয়নে প্রবেশ করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার পর আবার সেখানে ফিরে যায়। চাটমোহর থানা থেকে মাঝে মাঝে পুলিশী টহল দেয়া হয়। পুলিশী টহলের সময় চরমপন্থীরা নিষ্ক্রিয় থাকলেও পুলিশ চলে যাবার পর আবার তাদের তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়। এ কারণে এই ইউনিয়নবাসী একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবী তুলে আসছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনকল্পে সরকারের নামে জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছে। খুব শীঘ্রই সেখানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করার কার্যক্রম শুরু হবে।

 

এই ইউনিয়নে কিছু সংখ্যক খ্রীষ্টান পরিবারের বসতি রয়েছে। খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ক্যাথলিক মিশন আছে। খ্রীষ্টানরা স্থানীয় মুসলমান ও হিন্দুদের সাথে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থানে থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

ফৈলজানা ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় হাট হচ্ছে ‘শরৎগঞ্জ হাট’। স্থানীয় জনসাধারণ তাদের উৎপাদিত ফসল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এই হাটেই ক্রয়-বিক্রয় করেন। এখানকার শিক্ষিতের হার পূর্বে অনেক কম হলেও এখন ধীরে ধীরে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনিয়নের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়মূখী করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ হতে বিশেষ তৎপরতা ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে পড়াশুনার মান বেশ ভাল। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সাক্ষর রাখে। ইউনিয়নটি চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় উচ্চ শিক্ষার জন্য মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তর অতিক্রম করার পর ছাত্র-ছাত্রীরা শহরমূখী হয়ে পড়ে। এই ইউনিয়নবাসী নিজেদের কৃষ্টি ও কালচার ধরে রাখার জন্য অবিরাম কাজ করে চলেছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিরলস প্রচেষ্টায় অপসংস্কৃতিক কুপ্রভাব এখনো ইউনিয়নবাসীকে আক্রান্ত করতে পারেনি। নতুন নতুন শিল্প কারখান গড়ে তুলে এ এলাকাবাসীর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে এ জনপদকে সমৃদ্ধ করা এখন গণদাবীতে পরিণত হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


Share with :

Facebook Twitter